![]()


ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::
দুর্ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছিল কংক্রিটের জঞ্জাল, বাচ্চাদের বই-খাতা, আধপোড়া ব্যাগ, পুড়ে যাওয়া চেয়ার।
ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পরের দিন উৎসুক মানুষ সেখানে গিয়ে এই চিত্রই দেখেছিল।
তার ঠিক এক বছর পর গিয়ে দেখা যায়, যে ভবনে যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে এমন দৃশ্যের জন্ম দিয়েছিল, তা ভেঙে ফেলা হচ্ছে।
তাহলে কী সেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো শিশু শিক্ষার্থী, সেই শিক্ষিকা, যিনি জীবন দিয়ে শিক্ষকতা শিখিয়ে গেছেন, তাদের স্মৃতিও ভবনটির সঙ্গে হারিয়ে যাবে?
স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের আগ্রহ থাকলেও কীভাবে তাদের স্মৃতি ধরে রাখবেন সে বিষয়ে তাদের কোনো পরিকল্পনা নেই।
গত বছরের ২১ জুলাই দুপুর ১টা ১৮ মিনিটের দিকে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে এই ভবনটির ঠিক সামনে প্রশিক্ষণ বিমান এফ-৭ বিজিআই আছড়ে পড়ে ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়ে বিধ্বস্ত হয়।
এ ঘটনায় ২৮ জন শিক্ষার্থী, তিনজন শিক্ষিকা, তিনজন অভিভাবক এবং একজন পরিচালকসহ ৩৫ জন মারা যায়। এছাড়া ১৭২ জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছিলেন।
ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর গেল বছর ১২ অক্টোবর অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা যে নয় দফা দাবি তুলে ধরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছিলেন, সেখানে নিহত ও আহতদের শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণের কথা বলা হলেও স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি ছিল না।
রোববার সরেজমিনে ওই স্কুল ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটি ভাঙার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। চারদিকে উঁচু টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। বাইরে থেকে ভবনটি খুব একটা চোখে পড়ে না। এর দ্বিতীয় তলা ভাঙার কাজ প্রায় শেষের দিকে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউকের নির্দেশনায় ভবনটি ভাঙার কথা বলেছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল নুরুন নবী।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটা আমরা এখন ভেঙে ফেলব, কিন্তু স্মৃতিটা রাখার জন্য আমরা কিছু একটা চেষ্টা করব। তবে এখানে আমরা কি করব, তা এখনো পরিকল্পনা করিনি। রাজউক থেকে আমাদের বলা হয়েছে ভবনটি ভেঙে ফেলার জন্য, তাই আমরা তা করছি।”
নিহত ও আহত পরিবারের কাছ থেকে সেই ট্র্যাজেডির স্মৃতি সংরক্ষণে কোনো প্রস্তাব পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে আমরা এতটা বেদনা বোধ করি যে আমরা এখন এটি নিয়ে চিন্তা করিনি। স্মৃতি সংরক্ষণে কি করা হবে, তা নিয়ে কোন প্রস্তাব বা সুপারিশও এখনো পাইনি।”
অবশ্য দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদের বাবা মো. রুবেল মিয়া চান তাদের সন্তানদের স্মৃতি সংরক্ষিত হোক।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের সন্তানের স্মৃতি সংরক্ষিত হোক, সেটা আমরা অবশ্যই চাই। তবে আমরা মুসলমান, তাই এখানে কোনো স্মৃতিসৌধ বা স্তম্ভ নির্মাণ হোক তা চাই না।
“প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ যদি দুর্ঘটনার এই স্থানে একটি আধুনিক মসজিদ নির্মাণ করে, তাহলে আমরা এখানে এসে নামাজ আদায় করতে পারব, আমাদের সন্তানদের জন্য দোয়া করতে পারব। এটাই আমাদের চাওয়া।”